মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

জেলা প্রশাসনের পটভূমি

যে অঞ্চল নিয়ে ভূতপূর্ব বাকেরগঞ্জ জেলা গঠিত হয়েছিলো তা পূর্বে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। জেলার অধিকাংশ ভূখণ্ড জঙ্গল, চরাঞ্চল ও নদ-নদী সমন্বয়ে গঠিত ছিলো। এ অঞ্চল এক সময়ে বাকলা নামে সমধিক খ্যাত ছিল। চতুর্দশ শতাব্দী নাগাদ এই অঞ্চল চন্দ্রদ্বীপ নামে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করে। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজধানী পরবর্তীকালে ছিল মাধবপাশা। এই রাজধানী বরিশাল শহর থেকে মাত্র ৮ মাইল দূরে অবস্থিত ছিল।

অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ঢাকার মুঘল প্রশাসনের অন্যতম কর্মকর্তা আগা বাকেরের নামানুসারে বাকেরগঞ্জ নামের উৎপত্তি। আগা বাকের বুজর্গ উমেদপুর পরগণার জমিদার ছিলেন। জেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এ পরগণা ছিল সর্ববৃহৎ। তদুপরি আগা বাকের সেলিমাবাদ পরগণারও ওয়াদ্দাদার ছিলেন। এ পরগণার সদর দফতর ছিল বাকেরগঞ্জ। কালক্রমে এ জায়গাতে সমৃদ্ধশালী বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। পরে ব্রিটিশ আমলে কালেক্টরের অধীনে জেলা গঠিত হলে কিছুকাল এই শহরেই জেলার সদর দফতর ছিল।

১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে দেওয়ানি মঞ্জুরি হিসাবে এ জেলার স্বত্ব লাভ করে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময়ে এই জেলা পৃথক কমিশনারের অধীনে ঢাকার অংশ ছিল। ১৭৯৭ সালে কমিশনারের পদ বিলুপ্ত করা হয় এবং সুষ্ঠু প্রশাসনের জন্য ঢাকা কালেক্টরের অধীনে এ এলাকার জন্য একজন স্বতন্ত্র জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে জেলা গঠন করা হয়। এর সদর দপ্তর স্থাপিত হয় বাকেরগঞ্জে। ১৮০১ সালে জেলার সদর দপ্তর বরিশালে স্থানান্তরিত হয়। ১৮০৬ সালে যশোর জেলার সঙ্গে এ জেলার সীমানা নির্ধারিত হয়। বাকেরগঞ্জের পশ্চিমে বলেশ্বর নদী, ঝিনঝিনিয়া খাল ও তৎসংলগ্ন গোপালগঞ্জ-মকসেদপুর সড়ক এই দুই জেলার মধ্যবর্তী সীমানা হিসেবে চিহ্নিত হয়। ১৮০৬ সালে গৌরনদী থানাকে ঢাকা-জামালপুর থেকে এ জেলার অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ১৮১১ সালে হাতিয়া দ্বীপের একাংশ চট্টগ্রামের আওতাধীন হয়।

১৮১৭ সালে জেলার জন্য একজন স্বতন্ত্র কালেক্টর নিযুক্তির পর বাকেরগঞ্জ ব্রিটিশ শাসনাধীনে সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসাবে গঠিত হয়। এ সময় জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল বর্তমান খুলনা জেলার অংশবিশেষ ও ফরিদপুর জেলার প্রায় সমগ্র মাদারীপুর মহকুমা। পরে ভোলা দ্বীপ ১৮২২ সালে বাকেরগঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নোয়াখালী জেলার সাথে সংযোজিত হয়। কিন্তু পুনরায় ১৮৬৯ সালে ভোলা বাকেরগঞ্জ জেলার আওতাভুক্ত হয়।

পরবর্তীতে উপজেলা থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন হওয়ায় সাবেক বাকেরগঞ্জ জেলা বিভক্ত হয়ে বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা নতুন জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জেলা গেজেটীয়ার: বাখরগঞ্জ, মে. জে. (অব.) এম এ লতিফ সম্পাদিত, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ১৯৮৪।