মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ব্যবসা বাণিজ্য

 

অতীত ব্যবসা-বাণিজ্য

 

‘ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল’ এ শ্লোগানের সাথে এক সময়ের বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ নামে পরিচিত বরিশালের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। নদী ও খাল-বিলে ভরপুর ছিল বরিশাল বিভাগ। কৃষি ফসলের পাশাপাশি প্রচুর পরিমানে সুপারি ও নারিকেল উৎপাদন হতো। দৌলতখান, আমতলী, পাতারহাট, নলছিটি, নীলগঞ্জ, গালুয়া সহ বেশ কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছিল সুপারির ব্যবসা কেন্দ্র। এখন আর আগের মতো ফলন নেই। তাই হারিয়ে গেছে ব্যবসা কেন্দ্রগুলো। বর্মি ও চীনারা সুপারি ক্রয়ের জন্য বরিশাল আসতেন। বন্দরে বসবাস করত চীনা ব্যবসায়ীরা। তাদের এখনো কিছু কবর আছে নলছিটিতে। বরিশালের বিভিন্ন বন্দর থেকে সুপারি যেত কলকাতা, চট্টগ্রাম ও রেঙ্গুনে। বার্মার লোকেরা সুপারি জাল (সিদ্ধ করে) দিয়ে এক প্রকার রং তৈরী করত। সুপারির তিনটি প্রকার ছিল টাটি, মগাই ও ভেজা। ভেজা সুপারি শুকানোর পর তাকে মগাই বলা হয়। সুপারির পরপরই স্থান ছিল নারিকেলের। বরিশালের সর্বত্র নারিকেলের ব্যাপক ফলন হতো।  ১৮৯৪-৯৫ সালে বরিশাল হতে কলকাতা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঢাকা ও পাবনা সহ বিভিন্ন স্থানে ৭ লক্ষ নারিকেল পাঠানো হতো। ধান, সুপারি ও পানের পাশাপাশি খেজুর ও আখের চাষ হতো ব্যাপক পরিমানে। আখের রস দিয়ে চিনি তৈরী করা হতো। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বরিশালে চিনি তৈরীর জন্য আখের মাড়াই কল কিনে ব্যবসা খুলেছিলেন। বরিশালের উত্তরে তখন প্রচুর পরিমানে পান উৎপাদন হতো। টরকীর ব্যবসা কেন্দ্র থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় পান চালান করা হতো। ১৮৭৫ সালে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জে সামান্য পরিমানে তুলা চাষও হয়েছিল। এছাড়াও বরিশালের উর্বর মাটিতে মরিচ, তিঁল, তিশি, সরিষা, মসুরী, কলাই, কচু ও অন্যান্য রবি ফসল উৎপাদন হতো।

 

১৮৭২ সাল পর্যন্ত বরিশাল জেলায় ১৪ হাজার তাঁতী ছিল বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। গৌরনদীর পাতিহারের কাপালিরা পাট দিয়ে ছালা (বস্তা) তৈরী করত এবং বিশ্ব গ্রামের মুসলমানরা দেশী কাগজ প্রস্তুত করতো। ঝিনুক ও শামুক দিয়ে তৈরী হতো চুন। পাল তোলা নৌকায় তা ধানের বিনিময়ে বিক্রি করতো এক শ্রেণীর লোক। অগ্রহায়ন-পৌষ মাসে চুন ও মাটির তৈরী হাড়ি পাতিলের ব্যবসা ছিল জমজমাট। নদী-খালগুলো ভরাট হওয়ার সাথে সাথে হ্রাস পেয়েছে খাদ্য উৎপাদন। সুপারি ও নারিকেলের বাগান নদী গর্ভে বিলীন ও মরক রোগে একেবারেই ধবংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। বরিশাল বিভাগে আগে ২৪ ঘন্টায় দু’বার জোয়ার-ভাটা হতো। জোয়ার বা ভাটা একবারে ৬ ঘন্টার বেশি স্থায়ী হতো। বর্ষাকালের পূর্ণিমা ও অমাবশ্যার জোয়ারে ১০ থেকে ১২ ফুট পানি বৃদ্ধি পেত। সামান্য জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেত ৪ থেকে ৫ ফুট। এ জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে কৃষকরা ব্যাপক ফসল ফলাতো। বাংলার শস্য ভান্ডার হিসেবে তখন পরিচিত ছিল বরিশাল। বরিশালের বালাম চাল ছিল এ উপমহাদেশের মানুষের কাছে খুবই প্রসিদ্ধ। এখন সেই জেয়ার-ভাটার বেগ নেই। দখিনের ফসলী জমিগুলোও হারিয়েছে উর্বর ক্ষমতা। তাই প্রাচ্যের ভেনিস শব্দের সাথে শস্য ভান্ডার ও বালাম চালের ঐতিহ্য বিলীন হয়ে গেছে।

 

এক সময়ে বরিশালকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে রমরমা ব্যবসা-বানিজ্য ছল। ১৭৫৭ সালের পর ইংরেজ বনিকরা বাকেরগঞ্জ ও বারইকরনে ব্যবসা বানিজ্যের জন্য জলপথে ছুটে আসত। তাদের আকর্ষণ ছিল এ অঞ্চলের চাল, লবন ও সুপারির দিকে। পতুর্গিজরা বাকলা ও চন্দ্রদ্বীপে (বরিশালের আদি নাম) ব্যবসা বানিজ্য করতে আসে। তারা মূলত বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালী জেলায় ব্যবসা করত। তখন নদী পথে ঢাকা-কলকাতা ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করত। ঢাকা হতে পদ্মা, মেঘনা, আড়িয়ালখা, সুগন্ধা, ধানসিড়ি, পিরোজপুরের দামোদর নদী, বলেশ্বর ও ভৈরব নদী হয়ে কলকাতায় ইংরেজদের বানিজ্যের পথ সম্প্রসারিত হয়েছিল। ঢাকা, কলকাতা, হলদিয়া ও দৌলতদিয়া রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ব্যবসা বানিজ্যের গতি মন্থর হয়ে পড়ে। পূর্বের ব্যবসায়ী বন্দরগুলো কালের বিবর্তনে ধবংস হয়ে গেছে।

 

বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্য

 

বরিশালের কয়েকটি খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি নিম্নে তুলে ধরা হলো :

 

প্রতিষ্ঠানের নাম : অপসো ফার্মা

ধরন : বড়

ঠিকানা : বগুড়া রোড, বরিশাল

উৎপাদিত পণ্য : ঔষধ

মালিকানা : ব্যক্তিমালিকানাধীন

 

প্রতিষ্ঠানের নাম : অপসো স্যালাইন

ধরন : বড়

ঠিকানা : বগুড়া রোড, বরিশাল

উৎপাদিত পণ্য : স্যালাইন

মালিকানা : ব্যক্তিমালিকানাধীন

 

প্রতিষ্ঠানের নাম : অ্যাংকর সিমেন্ট

ধরন : বড়

ঠিকানা : দপদপিয়া, বরিশাল

উৎপাদিত পণ্য : সিমেন্ট

মালিকানা : ব্যক্তিমালিকানাধীন